বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে শোকে স্তব্ধ পুরো দেশ। তিনি ছিলেন জাতীয় নেত্রী ও দেশের শীর্ষ অভিভাবক। প্রিয় নেত্রীর এমন মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা দেশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া-পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনন্য নাম। কোটি কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং আপসহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে এই মহীয়সী নারীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ খালেদা জিয়া, আজ সকালে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’
লাখ লাখ মানুষ শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার দীর্ঘ সংগ্রামের পথ এবং আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরছেন অনেকেই।
সাংবাদিক এম মোশাররফ হোসাইন লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে যারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হোক।’
সাংস্কৃতিক কর্মী মধুসূদন মিহির চক্রবর্তী লিখেছেন, ‘সবে কিশোর থেকে যুবক হয়ে ওঠার সময় দেখেছিলাম বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করবেন, চিরকাল। তার অনন্ত লোকের যাত্রা শান্তিময় হোক। শোক ও শ্রদ্ধা জানাই।’
বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে গভীর শোকের ছায়া। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকা, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় এলাকায় অগণিত নেতা-কর্মীকে আহাজারি করতে দেখা গেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্ব নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ‘দেশনেত্রী’ , ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিলেন তার প্রিয় দেশবাসীর কাছ থেকে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, খালেদা জিয়া আজ (মঙ্গলবার) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।