নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি (শরীফ ওমর)। তবে জিডিতে নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে জানায় পুলিশ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে তিনি শাহবাগ থানায় জিডিটি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ওসমান হাদির ভাই একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা বলেছেন।’
জিডির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান শাহবাগ থানার পরিদর্শক।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ওমর বিন হাদি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শহীদ ওসমান হাদি ও তার মায়ের একটি ছবি পোস্ট করেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমি ওসমান হাদির ভাই প্রমাণ করার জন্য একটি ছবি পাইছি। ভাই তোমরা হাদির যা ছিলো সব নিয়ে নেও, এমনকি তার বউকে নিয়ে নাও, শুধু আমার সন্তানটা আমাকে দিয়ে দেও, প্লিজ, তাকে নিয়ে আমি ইউকে চলে যাবো নিরাপদ বসবাসের জন্য।’ এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পোস্টটিতে কমেন্ট করেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। তিনি লেখেন, ‘ভাইয়া আপনি ইউকে যাবেন খুব ভালো, তবে আমার ফিরনাসকে (ওসমান হাদির ছেলে) নিয়ে কেনো টানাটানি? ফিরনাস বাদে আমার আর আছে কি! আমি সরকারের জব অফারও ফিরিয়ে দিয়েছি।’ বিষয়টি আরও আলোচনায় এলে ওমর বিন হাদি পরে তার পোস্টটি মুছে দেন।
পরে রাবেয়া ইসলাম সম্পা ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘মেজ ভাইয়া, ওসমান হাদির বউ কোনো প্রোডাক্ট না যে কেউ চাইলেই নিয়ে নিবে। আর আমার সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে সবাই নিতেই চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। বাই দ্য ওয়ে ফিরনাসের বাপ একজনই, শহীদ ওসমান হাদি।’ তার এই পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এর আগে তার নিরাপত্তার জন্য সরকার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবহন পুল থেকে একটি গাড়ি ও একজন গানম্যান দিয়েছিল।