ঢাকা-৬
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা-৬ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, নির্বাচনী সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থেকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। একটি সুষ্ঠু ভোটের অপেক্ষায় ভোটাররা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।
টিকাটুলির সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বুধবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা-৬ আসনের ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় সকাল থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি থানার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিন জন।
এই আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৮৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৮৩ জন ও নারী ভোটার ৭৬২ জন। পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা করা হবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। অন্য ভোটগুলো সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করা হবে।
ঢাকা-৬ আসনে এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট সাতজন প্রার্থী। বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, জামায়াতের মো. আব্দুল মান্নান, জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদের ফখরুল ইসলাম, গণফ্রন্টের আহমেদ আলী শেখ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইউনুস আলী আকন্দ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আক্তার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের প্রত্যাশা প্রিজাইডিং অফিসারদের:
বুধবার বিকেলে ঢাকা-৬ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে নাগরিক প্রতিদিনের কথা বলে। অফিসাররা সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের কথা জানান। সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি সকাল সাড়ে ১১টায় নির্বাচনী মালামাল নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হই এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ শুরু করি। কক্ষগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন পর্যন্ত পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।’
রোকনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (পুরুষ কেন্দ্র) প্রিজাইডিং অফিসার মো. আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ভোটকক্ষগুলোতে সঠিকভাবে বুথ বসানো হয়েছে ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
রোকনপুর সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (মহিলা কেন্দ্র) প্রিজাইডিং অফিসার মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৭৯৩ জন এবং ভোটকক্ষ রয়েছে চারটি। প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের পরিবেশ ভালো রয়েছে। ছোটখাটো বিষয় থাকতেই পারে, তবে বড় কোনো সমস্যা বা অভিযোগের তথ্য আমার কাছে নেই। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক।’
সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৯১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৮৬ জন ও মহিলা ভোটার ৯২৬ জন। এখানে মোট চারটি ভোটকক্ষ রয়েছে। আমি নির্ধারিত সময়েই সব নির্বাচনী সামগ্রী, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝে পেয়েছি। গ্রহণের পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্র প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করেছি।’
উচ্ছ্বাসিত ভোটাররা
রোকনপুর অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছর আমরা ভোট দেওয়া তো দূরের কথা ভোটের সময় এলাকাতেই থাকতে পারিনি। এবার সবাই উৎসবের সাথে ভোট দেবো। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে গেছে। আমাদের পছন্দ মতো ভোট দেবো।’
বাংলাবাজার এলাকার আরেক ভোটার রহিমা বেগম বলেন, ‘অনান্য সময়েও ভোট দিয়েছি কিন্তু এত আনন্দ লাগেনি। এবার বেশি আনন্দ হচ্ছে ভোট নিয়ে। সকাল সকাল ভোট দেবো। মারামারি না হলে ইনশাআল্লাহ ভোটটা সবাই একলগে উপভোগ করবো। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবো।’
ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা লুবনা হক বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের জন্য আমরা পরিবারের সবাই অপেক্ষায় আছি। গত দুইবার আমরা কেউই ভোট দিইনি। সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবো। তবে ভোট কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে অংশগ্রহণ বাড়বে ভোটারদের। মারামারি হওয়ার খবর শুনছি এজন্য ভয় লাগছে।’
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢাকা-৬ ও ৭ আসনে তৎপর থাকবে বলে জানান র্যাব-১০-এর লালবাগ কমান্ডার তানভীর হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বায়িত্ব ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৭ আসন। এই আসনের নিরাপত্তা দ্বায়িত্বে আমরা আছি। প্রত্যেকটা কেন্দ্রে ফোর্স থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ড্রোন ডগ স্কোয়াড থাকবে। ইতোমধ্যে সকল কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যেকোন ধরনের গুজব ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড বানচাল করতে আমরা প্রস্তুত আছি। এবং আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। ভোট শুরু থেকে গননা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো। এবং সুশৃঙ্খলভাবে ভোট নিশ্চিতে আমরা সর্বদা তৎপর থাকবো।’
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ভোট সম্পন্নের জন্য আমরা কাজ করছি। সব কেন্দ্রে ব্যালটসহ নির্বাচনী সরঞ্জামাদী পৌছে গেছে। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে রেকর্ড সংখ্যক পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে।’