কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে গণনা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় দেশের সব ভোটকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়। অনেক স্থানে ইতোমধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়ে গেছে।
কয়েকটি স্থানে ভোট গণনার কার্যক্রম শুরু করতে দেখা গেছে। এই বছর সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে দেওয়া হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদা কালো রঙের, অন্যদিকে গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের। প্রথমে এই রঙের ব্যালট পেপার আলাদা করা হবে। এরপরে আলাদা আলাদাভাবে গণনা করা হবে।
এদিন সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। দেশের সব জেলায় কমবেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবশ্য ব্যতিক্রম যে কিছু ছিল না, তা নয়। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোটখাট হাতাহাতি, সংঘর্ষ, কককেটল বিস্ফোরণের মতো খবর পাওয়া গেছে। দেশের চার স্থানে ভোট দিতে দিয়ে চারজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর কোনোটিই সহিংসতার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে।
কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের টাকাসহ আটক করে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন কোনো কোনো প্রার্থী।
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, ‘সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন—দলীয় ১ হাজার ৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।
মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২৩২ জন। সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১) এবং সর্বোচ্চ গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩)।
নির্বাচনে ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবং ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ২১৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।