আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আমন্ত্রিতদের তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পাশাপাশি আছেন চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের সরকারপ্রধানরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার এই ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে নেওয়া হয়েছে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত। রীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে না এবার। জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রটোকল সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একই দিন সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৃহৎ পরিসরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজাকে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের সরাসরি উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তারাই হবেন দেশের নতুন সরকার। শপথগ্রহণ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আমন্ত্রণ পেলেও মোদি ঢাকায় আসবেন না। কারণ তার আগে আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের শিডিউল ঠিক করা ছিল। তার বদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট সি পি রাধাকৃষ্ণ শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।