মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু সে আদেশ নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে রোববার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শফিকুল আলম তার পোস্টে লিখেছেন, শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের ‘অপতথ্য ও অনুমাননির্ভর বক্তব্য’ প্রচারিত হচ্ছে।
প্রেস সচিব বলছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি (আব্দুর রশীদ) নির্বাচনের কিছুদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টার নিকট দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে, নির্বাচন সন্নিকটে চলে আসায় মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তিনি নির্বাচনকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে সম্মত হন।’
এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে অহেতুক অনুমাননির্ভর তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রেস সচিব।
অন্যদিকে শনিবারই প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার খবর নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে অবশ্য ফয়েজ তৈয়্যব নিজেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে আগামী মঙ্গলবার নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছ থেকেই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। শেখ আব্দুর রশীদ শনিবার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমি কয়েক দিন আগে পদত্যাগ করেছি। আজ সেটা গ্রহণ করা হয়েছে।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় দিনের মাথায় ১৩ আগস্ট বিসিএস-৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রশীদকে পল্লী কর্মসহায়ক ফাইন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান করা হয়। তার চার দিনের মাথায় ১৭ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মজীবন শেষ করা ‘বঞ্চিত’ এ কর্মকর্তাকে সচিব পদমর্যাদায় ফিরিয়ে এনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়। এরপর ৮ অক্টোবর দুই বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় নতুন সরকার গঠনের আগ মুহূর্তে তার নিয়োগ বাতিল করা হলো।
উল্লেখ্য, শেখ আব্দুর রশীদের জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। তিনি নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শনিবার রাতেই এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।