ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এই শপথগ্রহণের মাধ্যমে দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এ মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান ও তার নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রথমে তিনি বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর পর্যায়ক্রমে বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে মন্ত্রী ও পরে ৪টা ২৬ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
শপথগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। আজকের ঐতিহাসিক স্থানটি প্রায় এক হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথিতে উপচে পড়েছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমান ও তাদের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।
সরকারপ্রধান হিসেবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও তাদের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে তাকে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে তারেক রহমান জাতীয় সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও রক্ষার শপথগ্রহণ করেন।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণও একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তারা শপথ গ্রহণ করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। কিছুক্ষণ পর জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
সকাল সাড়ে ১০টার কিছু সময় পর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। শপথগ্রহণ শেষে শপথপত্রের নির্ধারিত স্থানে নিজ নির্বাচনী এলাকা উল্লেখ করে তারিখসহ স্বাক্ষর করেন সংসদ সদস্যরা।
এরপর বিএনপি সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ত্রয়োদশ সংসদের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় দলের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা জানান।