আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘বিচারক’ শব্দটির সঙ্গেই সততার বৈশিষ্ট্য জড়িত। বিচার বিভাগে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থাই নয়, বরং দুর্নীতির মামলাও দায়ের করা হবে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে আইন মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারপতি মানেই সৎ। সৎ বিচারপতি বলে আলাদা কোনো সংজ্ঞা নেই। বিচারক শব্দটার সঙ্গেই সততার বৈশিষ্ট্য জড়িত। আমি বিচারকদের ক্ষেত্রে সৎ বা অসৎ—এই বিভাজন দেখতে চাই না। বিচারক মানেই তাকে সৎ হতে হবে।’
দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন দুর্নীতি করে পার পাবেন, তবে তিনি ভুল ভাবছেন। কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে আমরা শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষান্ত হব না, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে দুর্নীতির মামলাও দেওয়া হবে। এই বার্তাটি সবার জন্য পরিষ্কার থাকা উচিত।’
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যাদের মনে হবে সরকারি চাকরিতে যে বেতন পাওয়া যায় তাতে তাদের সংসার চলছে না বা এই আয়ে পোষাবে না, তাদের জোর করে চাকরি করার দরকার নেই। তারা চাইলে ওকালতি করতে পারেন। কারণ বিচারকদের অবসরের পর ওকালতি করার আইনি সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পদে থেকে দুর্নীতি করা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। এটা আমার কমন ম্যাসেজ।’
সভায় মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।