সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য নেই। ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে, সংবিধানের দোহাই দেওয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে তারা (বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য) বিরত থেকেছেন। এটি সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা আশা করব, দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা শপথ নেবেন।’
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এনসিপির সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। তবে শপথ গ্রহণের প্রথম দিনেই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল। এতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের প্রত্যাশাকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে সে অধিবেশন ডাকা হোক এবং তার আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিক এবং একই সময় যাতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়, আমরা সে আহ্বান জানাচ্ছি।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশে’ বিএনপি জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের বিনিময়ে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
নির্বাচনের পর জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব কার্যক্রম কিছু গণমাধ্যম উৎসবের সঙ্গে প্রচার করছে এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পথ তৈরি করা হচ্ছে।
এসময় মন্ত্রিসভার গঠন নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি এবং অনেক বৃহৎ অঞ্চল থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০ হওয়ায় তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি। জুলাই আন্দোলনে যে তরুণ শক্তি দেশকে পথ দেখিয়েছে, সেই বাস্তবতা মন্ত্রিসভায় প্রতিফলিত হয়নি।
চিফ হুইপ আরও বলেন, মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ীকে মন্ত্রিত্ব দিলে তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেবেন। এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে এবং বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।