বিভিন্ন গণমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকদের নানাভাবে হেনস্তা করা এবং চাকরিচ্যুতির খবর সামনে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার রাতে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনি মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলমের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে একটি হোয়াটস অ্যাপ বার্তা পাঠান সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল রহমান তুহিন।
বার্তায় আরিফুল রহমান তুহিন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা কোনো অপরাধ নয়, বরং সম্মানের। যারা ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিলেন, তারা এনসিপির কাছে সম্মানিত। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো হয়রানি বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
তবে এনসিপির এ বক্তব্যের বিপরীতে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সময় টেলিভিশনের ১০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়, হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একটি দল বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপকে চাপ প্রয়োগ করে বলে, সময় টিভির ১০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করতে হবে, নাহলে তারা বাঁচতে পারবে না। সময় টিভির একাধিক কর্মী ও সূত্রের বরাত দিয়ে তখন এ ধরনের হুমকির বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে বিনিয়োগ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ব্যারনসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সময় টেলিভিশনে বিনিয়োগকারী সিটি গ্রুপের অফিসে যান। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সময় টিভি নাকি হাসনাতের মন্তব্য নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছিল এবং একটি পতিত রাজনৈতিক দলের মতামতকে স্থান দিচ্ছিল। এ অভিযোগ তুলে একটি টেলিভিশনের বিনিয়োগকারীদের চাপ দিয়ে পাঁচজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করানো হয়েছে বলেও ব্যারনস দাবি করে।
তবে হাসনাত আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে জানান, তারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কট্টর সমর্থক, কিন্তু সংবাদমাধ্যমকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তিনি দাবি করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখেন না বলে মন্তব্য করেন। তবে সাংবাদিকদের বরখাস্ত করার জন্য তালিকা হস্তান্তরের অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।