বাবারা আমাদের জীবনের ভিত্তি, যারা নীরবে সংসারের ভালো-মন্দের ভার বহন করে চলেন। মা–বাবা এক সংসারের দুই অঙ্গ। তাই মায়েদের জন্য যেমন বিশেষ দিন রয়েছে, বাবাদের জন্যও রয়েছে বাবা দিবস। বাবার প্রতি সম্মান জানাতে ও তার দিক-নির্দেশনাকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই দিনটি পালন করা হয়। আজ ২০২৬ সালের ২১ জুন, তৃতীয় রোববার—আজ বাবা দিবস। কিন্তু বাবা দিবস পালন শুরু কীভাবে হলো?
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। এই দিবস পালনের উদ্যোগের কৃতিত্ব দেওয়া হয় সোনোরা স্মার্ট ডডকে। ছোটবেলায় মাকে হারানোর পর তার বাবা একাই ছয় সন্তানকে আদর, যত্ন ও দায়িত্ব নিয়ে বড় করে তোলেন। বাবার এই নিষ্ঠা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দেখে ডডের মনে হয়—যদি মা দিবস থাকতে পারে, তবে বাবা দিবস থাকবে না কেন? বাবাদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা উচিত।
তার এই উদ্যোগেই ১৯১০ সালে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরে বাবা দিবস উদযাপিত হয়। ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং পরবর্তীতে এটি জাতীয় স্বীকৃতি পায়। ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বাবা দিবসকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।
বাবা দিবস কেবল উদযাপন নয়, এটি পিতৃস্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি উপলক্ষ্য। বাবা এখন শুধু সন্তানদের আর্থিক নিরাপত্তাই দেন না, তিনি মূল্যবোধ শেখান, ভুল ধারণা থেকে বের করে আনেন, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পথ দেখান। তাই বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা সবসময় মুখে প্রকাশ করা সহজ নয়; তারা অনেক সময়ই অন্তরালেই থেকে যান। সেই কারণেই এই একটি দিন তাদের একটু বিশেষভাবে খুশি করার সুযোগ এনে দেয়।