‘ব্যাটাগিরি মুর্দাবাদ, ব্যাটাতন্ত্র নিপাত যাক’ স্লোগানঘন এমন বক্তব্য দিয়ে ফেসবুকে পৃথক পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেত্রী। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাদের পোস্ট ঘিরে দলীয় অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার (নিভা) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে “ব্যাটাগিরি মুর্দাবাদ” লিখে একটি পোস্ট দেন। এর কিছুক্ষণ পর দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন একই পোস্ট শেয়ার করে নিজের অ্যাকাউন্টে লেখেন, “ব্যাটাতন্ত্র নিপাত যাক”। তাদের এই পরপর পোস্টকে ঘিরে দলীয় রাজনীতিতে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপি কত দিন থাকবে—এ প্রশ্ন সম্প্রতি দলটির সাধারণ সভায়ও উঠেছে। গত শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১২টা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার (নিভা) সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন।
এক পর্যায়ে সামান্তা শারমিন প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী ঐক্য আর কত দিন বহাল থাকবে। তবে এ প্রশ্নের জবাবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন সরাসরি কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তারা বলেন, সদ্য সংসদ গঠিত হয়েছে, এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকায় এবং সামনে সংসদ অধিবেশন রয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
সভায় এনসিপি থেকে নির্বাচিত এক সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারোয়ারসহ কয়েকজন নেতা কেন এখনো জামায়াত ও জোটের বিষয়ে সমালোচনামুখর অবস্থানে রয়েছেন। জবাবে সামান্তা শারমিন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে তারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন—এই জোটে গেলে তারা নির্বাচন করবেন না এবং জোটের সমালোচনা করবেন। সে সময় শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের ব্যক্তিগত অবস্থানকে তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।