জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের আহ্বানকে কেন্দ্র করে তিনি দাবি করেছেন, এনসিপির পলিটিক্যাল কাউন্সিল কার্যত অকার্যকর এবং দলটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত একাউন্টে শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে দেওয়া এক পোস্টে মুশফিক উস সালেহীন এসব কথা বলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামান্তা শারমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। জামায়াতের ‘প্রধান বুদ্ধিজীবী ও ইতিহাসবিদ’ হিসেবে এমন মন্তব্য করার অধিকার তার আছে। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেন, এই বক্তব্য তিনি আসলে কাকে উদ্দেশ্য করে দিয়েছেন।
এনসিপির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে দলটির সাবেক এ নেতা। তিনি বলেন, দল প্রতিষ্ঠার পর ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ নামে যে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কাজ শুরু করেছিল, সেটিকে কোনো জেনারেল মিটিংয়ের আলোচনা বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করা হয়নি। বরং ১০ জন সদস্য নিজেরাই নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভা অনেক আগে ওই কাউন্সিলকে অকার্যকর দাবি করে পদত্যাগ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া তাসনিম জারাও এখন আর দলে নেই। এ অবস্থায় বাকি সদস্যরাই কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, নাকি কাউন্সিল পুনর্গঠন করা হয়েছে—এ বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন মুশফিক উস সালেহীন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, দলে থাকাকালে কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে অনেক সময় কাউন্সিলের সদস্যরাই বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করতেন। ফলে সিদ্ধান্তগুলো আসলে কোথা থেকে আসে এবং কে নেয়—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
মুশফিক উস সালেহীন প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির আসলে কাকে এই পরামর্শ বা নির্দেশ দিয়েছেন—নাহিদ ইসলামকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে, নাকি অন্য কাউকে—এ বিষয়টি তিনি নিজে পরিষ্কার করবেন কিনা।