গণভোট ও সংস্কার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ইস্যুতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা তার দেওয়া মুলতবি প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চান।
জবাবে স্পিকার জানান, তার অনুপস্থিতিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে—একটি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংশ্লিষ্ট, একটি গ্রেনেড হামলা এবং আরেকটি নুরুল ইসলাম মনির কোস্ট গার্ড বিষয়ক। তিনি আরও বলেন, ‘যে সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্ভব, তা নিয়ে সাধারণত মুলতবি প্রস্তাব আনা যায় না। তারপরও উদারভাবে এটি গৃহীত হয়েছিল।’
স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন, এ সংক্রান্ত আরও একটি প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে, যা ওইদিনই শোনা হবে। এতে আরও আলোচনা হবে এবং সংসদের কার্যক্রম প্রাণবন্ত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে এ বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। মূল নোটিশকে চাপা দেওয়ার জন্যই আরেকটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে। এজন্য দুটির প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়েছিল এবং এ বিষয়ে প্রচারও চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিরোধীদলীয় নেতাকে বক্তব্য সম্পূর্ণ করার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করতে দিলেন না।’ জবাবে ড. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি স্পিকারের বক্তব্য শুনেছেন।
পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে স্পিকার বলেন, ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের অধিকার। তবে তিনি অনুরোধ জানান, পরবর্তী প্রস্তাবটি শোনা এবং আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘নোটিশের বিষয়বস্তু শুনে তারপর সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়।’
তবে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, সংশ্লিষ্ট নোটিশ ইতোমধ্যে সংসদে পড়া হয়েছে এবং তারা বিষয়টি বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরই তিনি ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন এবং জামায়াত, এনসিপি এবং ১১ দলীয় শরীক এমপিরা সংসদ ত্যাগ করেন।