চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের দেওয়া রায় ডাকাতি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘চব্বিশে জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। কিন্তু সেই রায় হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তবে ইতিহাস বলে—অন্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আমরা জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়েছি, দেখিয়ে যাব। সংসদ মানুক বা না মানুক—আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছি, বর্তমান সংসদের সদস্যদের অধিকাংশই মজলুম। কেউ জেল খেটেছেন, কেউ নির্যাতিত হয়েছেন, কেউ মৃত্যুদণ্ডের মুখ থেকে ফিরে এসেছেন, কেউ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন। এমন মানুষদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের দুঃখ না বোঝে, তাহলে তা হবে চরম লজ্জার বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫৪ বছরের ইতিহাসে বারবার ফ্যাসিবাদ এই জাতিকে পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু চব্বিশের বিপ্লবীরা সেই ফ্যাসিবাদকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলেছিল। এখন আবার সেই ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই প্রজন্ম জেগে উঠলে দীর্ঘ আন্দোলনের প্রয়োজন হয় না; তাদের দৃঢ় অবস্থানই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার জন্য যথেষ্ট।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই প্রজন্মের পাশে আছি, তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, রক্ত, জীবন, জেল—যত মূল্যই দিতে হোক, ফ্যাসিবাদকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই লড়াই কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির জন্য নয়। এটা ১৮ কোটি মানুষের জন্য। আমরা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তন চাই না, ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। কারণ যে ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটাকেই বদলাতে হবে।’
জামায়াত নেতা বলেন, ‘আমরা (জামায়েত ইসলামী) বিশ্বাস করি, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে একটি দলের ভেতরেই আগে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের চর্চা থাকতে হবে। যারা নিজেদের দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা করতে পারে না, তারা জনগণকে গণতন্ত্র দিতে পারবে না।’