হবিগঞ্জ জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসান অভিযোগ করেছেন, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কারণে তার ও তার পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর, যা তার নিরাপত্তা, সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী হাসান জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইউরোপের একটি দেশের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। যেহেতু ওই দেশের ভিসা অফিস বাংলাদেশে নেই, তাই তাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। সেখানে তার অজান্তে একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে।
এ ঘটনায় তার ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে ভুয়া তথ্য যুক্ত করে প্রচার করা হয়, যা তার ভিসা প্রক্রিয়া ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তিনি ভিসার আবেদন সম্পূর্ণ না করেই দেশে ফিরে আসেন বলেও মাহদী হাসান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত ‘মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তার বিষয়ে একাধিক ভুয়া ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে তার কাছে ৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে।
তার ভাষ্য, তিনি কোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।
মাহদী হাসান আরও জানান, প্রতিবেদনে ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন, তিনি ফিনল্যান্ডের ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। এ ছাড়া দিল্লিতে তার অবস্থান সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে তিনি নিয়মিত মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। ফলে তার পরিবার সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরিচিতি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে তার বাবাও পেশাগতভাবে ভুক্তভোগী হয়েছেন।
তার সঙ্গে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর দায় বিবিসি বাংলা ও আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে বলেও মন্তব্য করেন মাহদী হাসান।
তিনি জানান, গত ৮ মার্চ তিনি বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ১৬ মার্চ তিনি একটি মানহানির মামলা করেন। মামলার নম্বর ৯২/২০২৬।
তিনি বলেন, ‘এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের আশায় আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’