জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে সংসদে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিকেলের সেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে আর সব কিছুই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কি পরামর্শ দিলেন সেই ব্যাপারেও কোথায় কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় না। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনবার ব্যাপারে বারবার আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি দল, বিরোধী দল ২৪-এর অভ্যুত্থানের আগে পরে সবসময় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হোক। বিএনপি তার ভিশন ২০৩০ এবং ৩১ দফাতেও এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছে। সে কারণেই সঙ্গতভাবে আমাদের একটা প্রত্যাশা ছিল যে এইবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে তার নিজের মতন করে ভাষণ দিতে পারবেন।’
রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তোলেন, ‘কিন্তু আমরা দেখলাম, এইবারও রাষ্ট্রপতির ভাষণ মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত একটি ভাষণ তাকে দিতে হলো। আমরা যদি এতটুকু স্বাধীনতা রাষ্ট্রপতিকে দিতে না পারি তাহলে আর আমরা কোন ভারসাম্যের কথা বলছি?’
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অসংখ্য নেতাকর্মী, যারা নানানভাবে বঞ্চিত হয়ে ভয়ভীতির মধ্যে দিয়ে আমার নির্বাচন করেছেন, দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন কিন্তু তারা আমাকে ছেড়ে যান নাই। তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘আমি আরও ধন্যবাদ জানাই বিএনপিকে আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্যে। আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া কত লক্ষ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া, সহযোগিতা আমার পাশে ছিল। একটা দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে এইটা বুঝবার সৌভাগ্য আমার হতো না।’
বেগম জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি দেশনেত্রী তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যিনি আমাকে স্নেহ দিয়ে রাজনীতিতে এনেছিলেন এবং আমি বিশ্বাস করি তার অপূর্ণতা এই সংসদে কোনোদিন পূরণ হবে না।’