সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে দীর্ঘ শুনানির পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার আপিল খারিজ করে দেয়।
এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দেন তিনি।
সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ার কারণে গত ২৩ এপ্রিল ইসিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
মনিরা শারমিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে, ওই বছরের মার্চে তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন নেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবিধিবদ্ধ বিশেষায়িত ব্যাংক।
গত ২২ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজন করা হয় জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী। এই আইনের ২৯ ধারায় বলা আছে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিধিমালার জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ ও অবসর গ্রহণ যদি তিন বছর অতিবাহিত না হয়।