ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “সংসদ সদস্যদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। তাদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পড়াতে হবে এবং তাদের চিকিৎসা নিজ এলাকার হাসপাতালে নিতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষাখাত: বাজেট ও বাস্তবতা’শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, “গ্রামে গেলে মনে হয় আরেক বাংলাদেশ। দেশের অনেকে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য শুধু টাকার জোরে দৌড়ে এগিয়ে থাকেন। তবে সংসদ সদস্যদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। তাদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পড়াতে হবে। এটাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্তত জেলা স্কুলে পড়াতে হবে। এলাকায় চিকিৎসা নিতে হবে। এটাও বাধ্যতামূলক করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ওয়াদা করেছি এলাকায় চিকিৎসা নেব। এটা বাধ্যতামূলক করলেই দেখা যাবে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে শত কোটির ঋণখেলাপি আর থাকবে না।”
বেতন বাড়ালে যোগ্য লোক শিক্ষকতায় উৎসাহিত হবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রিডিং পড়তে পারে না। শুদ্ধ করে এক বাক্য ইংরেজি লিখতে পারে না। বিদেশে সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসেন আর আমাদের দেশে উপাচার্য হন দলীয় পরিচয়ে।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেতন কাঠামো নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “শিক্ষকরা কেন কোচিং করান, কারণ তারা তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারেন না। একজন আমলা বা শিক্ষকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব এলে বাবারা রাজি হন না।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “এখনও অনেক জায়গায় বাচ্চারা হাঁটুপানি ডিঙিয়ে স্কুলে যায়। স্কুলে যাওয়ার রাস্তা নাই। এখানে ট্যাবের কথা বলা অমূলক। আগে বেসিক পূরণ করতে হবে। রাষ্ট্রে যখন পচন শুরু হয় তখন কোনো সেক্টরই বাদ পড়বে না।”