জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’ ও ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’ নিশ্চিত করার দাবিতে ৩৬ দিনের দীর্ঘ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। পরে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. আযাদ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কার প্রক্রিয়ার পক্ষে মত দিয়েছিল, তা উপেক্ষা করে সরকার সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। সংসদীয় ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে পুনরায় কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করার চেষ্টা চলছে।’
তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী ও দুর্নীতি সহায়ক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত ঘটনাস্থলে স্মৃতিচারণামূলক সমাবেশ এবং সারাদেশে গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচি নিয়েছে ১১ দল।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে
১ থেকে ১৫ জুলাই: জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সেমিনার এবং গ্রাফিতি অঙ্কন।
৪ জুলাই: রাজধানী ব্যতীত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল।
৬ জুলাই: জাতীয় সংসদের সামনে শহীদ পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
৮ জুলাই: জাতীয় সেমিনার।
বিভাগীয় সমাবেশ: ২৭ জুন (ময়মনসিংহ), ১১ জুলাই (রংপুর), ১৮ জুলাই (বরিশাল) এবং ২৫ জুলাই (সিলেট)।
২০ জুলাই: জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদান শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা।
২৩ থেকে ২৫ জুলাই: চিত্র প্রদর্শনী ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাস্থলগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ।
৩১ জুলাই: দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিল।
৫ আগস্ট: রাজধানীসহ সারাদেশে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে সমাপনী সমাবেশ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচিকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উল্লেখ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেন এবং সর্বস্তরের মানুষকে এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।