সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে নিয়ে এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন লেখক আলী আহমাদ মাবরুর। শনিবার (১৮ জুলাই) ফেসবুকে পোস্ট করা সেই অভিজ্ঞতা এরইমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাবরুর লেখেন, সংসদের অধিবেশন চলাকালে মাগরিবের নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে সিজদায় রয়েছেন। কয়েক মিনিট ধরে চলা সেই সিজদার দৃশ্য তার দৃষ্টি কাড়ে। কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, তিনি আর কেউ নন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। নামাজ শেষে কথা বলতে গেলে বাবর প্রথমে তাকে চিনতে না পারলেও, পরে পিতৃপরিচয় থেকে শুরু হয় আন্তরিকতার। এরপরই দুজনের মধ্যে চলতে থাকে বহু বছরের স্মৃতিচারণ।
পোস্টে বর্ণিত কথোপকথনে উঠে আসে কারাগারের দিনগুলোর নানা স্মৃতি। আদালতে নিয়মিত দেখা হওয়া, একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করা, এমনকি আদালত প্রাঙ্গণের ছোট ছোট ঘটনাও স্মরণ করেন মাবরুর। তিনি লিখেছেন, বাবর তাকে জড়িয়ে ধরে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং মাবরুরের প্রয়াত পিতার সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। সেই স্মৃতিচারণের মধ্যেই দুজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তবে পোস্টটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ বাবরের নিজের বক্তব্য। দীর্ঘ সিজদার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি পারতাম সারাদিন সিজদা দিয়ে থাকতাম। আমার তো ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি। আমার আল্লাহ আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। অপমানের জীবন থেকে আজকের জায়গায় এনেছেন। ১৭ বছর কারাগার আর কনডেম সেলের জীবন থেকে আবার সংসদে এনেছেন। আমি যদি সারাদিন সিজদা দিয়ে থাকি তাহলেও তো আল্লাহর শুকরিয়ার কিছুই আদায় হবে না।’
আলী আহমাদ মাবরুর তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বাবরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তার ব্যক্তিগত প্রশ্ন ও কষ্ট থাকলেও তার সেদিনের দীর্ঘ সিজদা, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দৃশ্য তাকে স্পর্শ করেছে। পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অনেকেই বাবরের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও পরে নিজেই একটি ছবি তোলার অনুরোধ করেন। জবাবে বাবর বলেন, ‘আমার আংকেলের সাথে তো আমিই ছবি তুলবো। মজলুম পরিবার তোমরা। ভালো থেকো।’ সেই শুভকামনা আর স্মৃতিকে নিয়েই মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন লেখক।