মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আসন বণ্টনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিএনপি তার শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির কাছ থেকে আসন না পাওয়া কয়েকটি দল এবং ক্ষুব্ধ নেতারা যোগাযোগ করেছেন জামায়াতের সঙ্গে।
নতুন মিত্র পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও জামায়াতের ৮ দলে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এই দলগুলো চায় জামায়াত ১৫০ আসনে নির্বাচন করুক এবং বাকিরা ১৫০ আসনে প্রার্থী দিক।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ১০০ আসনের দাবিতে অনড় রয়েছে। মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও অন্তত ২৫টি আসন চাইছে। প্রত্যাশিত সংখ্যার আসন না পেলে সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কয়েকটি দল।
তবে জামায়াত নেতারা বলেছেন, তিন দফা চালানো জরিপের ভিত্তিতে আসন সমঝোতা করা হচ্ছে। কয়েকটি মিত্র এমন আসন চাইছে যেখানে তাদের পরাজয় নিশ্চিত, জামায়াত প্রার্থীদের অবস্থা সেখানে ভালো। জামায়াত নেতারা জানান, প্রার্থীর পরিচিতি ও অবস্থান ভালো থাকলে সেই আসন ছাড়তে তারা রাজি। কিন্তু নিশ্চিত পরাজয়ের জন্য আসন ছাড়া যায় না।
জামায়াত সূত্র জানায়, তারা দুই শতাধিক আসনে দলীয় প্রার্থী দেবে। এনসিপি, এবি পার্টিসহ সব মিত্রকে মিলিয়ে ৮০টি আসন ছাড়বে।
বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বাসায় যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থ জামায়াত নেতাকে দেখতে যাওয়ার কথা বলা হলেও দল দুটির সূত্র জানায়, সেখানে নির্বাচনী সমঝোতার আলোচনা হয়েছে। আবদুল্লাহ তাহের গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের মধ্যে সৌজন্যমূলক কথা হয়েছে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সরাসরি পাওয়া না গেলেও তার দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ সদস্য জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে জোটের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি শুরুতে ৩০টি আসন ছাড়ার কথা বললেও শেষ সময়ে এসে চারটি দিতে চাইছে। গত মাসে এনসিপি, এবি পার্টি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বিএনপির জোট ছেড়েছে নতুন ধারার রাজনীতি করতে। কিন্তু জোটের অনেকে এখন আসন সমঝোতার রাজনীতি করছে। জামায়াতের সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন যাবে না।’
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিএনপির কাছ থেকে আসন পেলেও দলটির অন্য নেতারা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে জামায়াত জানিয়েছে, দলগতভাবে এলে সমঝোতা করা হবে।
অন্যদিকে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রমের এলডিপিকে শুধু একটি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ অলি আহমেদ একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াত সূত্র জানায়, একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধাকে পাশে পেতে এলডিপির সঙ্গেও সমঝোতা হতে পারে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির লক্ষ্যে তৃতীয় শক্তি হিসেবে অবস্থান নেওয়ার বিরাট সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সবাই ক্ষমতার অংশ হওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিগগির জোটের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।’