বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে, আগামীতেও করবে।’
বিগত দিনে মানুষের রাজনৈতিক ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর ব্যালট ছিনতাই হয়েছে, আমি-ডামি, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, আমরা দেখেছি। রাজনৈতিক, বাক স্বাধীনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গত ১৬ বছর অনেককে হারিয়েছি। গত ১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেওয়া হয়েছিল। এজন্য বলেছি, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘তথাকথিত উন্নয়নের নামে অর্থ লুট করে নেওয়া হয়েছে। লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অবস্থার উন্নয়ন করতে চাই। যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। গুম খুনের মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতের জন্য হাজারো মানুষ ২০২৪ সালে জীবন দিয়েছে। একাত্তরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে জনতা।’
তিনি বলেন, ‘নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল বিএনপি। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।’
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি মঞ্চে ওঠেন। এটি বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভা।
এদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
প্রায় ২ দশক পর সিলেটে তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।