‘নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। আমরা একটা ইসলামী দল। আসলে পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি’—এমন কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পদে নারীদের সুযোগ দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে নুরুন্নেসা সিদ্দিকা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী হলো ইসলামী সংগঠন। ইসলামী সংগঠন ইসলাম মেনে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। যেখানে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, পুরুষ হচ্ছে নারীদের পরিচালক। এটা আল্লাহর নির্দেশ, এটা ফরজ।’ তার মতে, শীর্ষ পদে নারী আসাটা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি। এদিন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটির মহিলা শাখার চার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসে মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ বৈঠকে সিইসির কাছে নানা অভিযোগ করা হয়। জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, সদস্য মারজিয়া বেগম ও ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, ‘নারী শীর্ষ পদে থাকলেই একটা কিছু হবে এটা ঠিক নয়। এর আগে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিন্তু নারীর কোনো উন্নয়ন হয়নি। জামায়াত নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।’
হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, ‘আমরা লোকাল ইলেকশনে নারী প্রার্থী দিচ্ছি এটা কিন্তু প্রমাণিত। সামনে নারীরাও জামায়াতের ভালো পদে আসবে। পরে নারীরা সংসদ ভোটে সরাসরি লড়াই করবে।’
বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা জানান, ভোটের প্রচারে গিয়ে দলটির নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হন। নারী কর্মীরা যখন ভোটের প্রচারণায় যাচ্ছেন তখন একদল লোক হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এমনকি দলের শীর্ষ নেতার আইডি হ্যাক করে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে।
যারা এসব কাজে জড়িত তাদের খোঁজ নিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামায়াতের নেত্রীরা বলেন, আমরা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এটি জাতিরও প্রত্যাশা। দুইটি নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। একটা ইতিবাচক নির্বাচন আমাদের প্রত্যাশা। এ ব্যাপারে সরকার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
তারা বলেন, ‘এই প্রথম জামায়াতের মহিলা উইং থেকে আমরা নির্বাচন কমিশন এসেছি। সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বাংলাদেশে ফিফটি পার্সেন্ট নারী। আমরা সুষ্ঠু একটা পরিবেশ ভোট দিতে চাই।’
‘এই বোনদের প্রতিহত করতে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই অর্গানাইজেশন আমাদের অধিকার দিচ্ছে, আমাদের সম্মান দিচ্ছে। আমাদের মেয়েদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। কিছু মহল এই অ্যাক্টিভিটি পছন্দ করছে না। তাই প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা কোনো খারাপ কাজ করছি না। একটা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ করে দেওয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানিয়েছি’ বলেন জামায়াতের নারী নেত্রীরা।
তারা বলেন, ‘ফোর্স করে নারীদের রুখতে পারবে না। যেখানে বাধা আসবে সেখানেই প্রতিবাদ করবো। আমাদের সাহস আছে, আমাদের ঈমান আছে। আমরা কোনো বাধা মানবো না।’
এদিন মোট ১৫টি জায়গায় জামায়াতের নারীদের ওপর হামলার ডকুমেন্ট ও ভিডিও নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে জামায়াতের নারী শাখা। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমানও উপস্থিত ছিলেন।