আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে দলের প্রার্থী, কর্মী ও বিশেষ করে নারীকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এ সংক্রান্ত দাবি পেশ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ব্যারিস্টার সাইফউদ্দিন খালেদ ও সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা রোববার নির্বাচন কমিশনে এসেছি আসন্ন নির্বাচনে আমাদের কাছে যে সমস্যাগুলো পরিলক্ষিত হয়েছে তা জানাতে। বিশেষ করে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কারো কারো আচরণে পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
নারীদের নিরাপত্তা ও অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারীদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছে, একটি দলের পক্ষ থেকে লাখ লাখ বোরখা বানানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। মূলত পর্দাশীল ও ধর্মপ্রাণ নারী ভোটারদের মনে ভীতি সঞ্চার করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা কমিশনকে বলেছি, দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। তাদের নিরাপত্তা, সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। নারীরা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কমিশনের কাছে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়েছি।’
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, ‘নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কমিশনকে অনুরোধ করেছি, যারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। অন্যথায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় নারীদের সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখে। আমিরে জামায়াতের হ্যাক করা টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা জিডি করেছি ও আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও পলিসি পেপারেও নারীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নারী সমাজ আমাদের ব্যাপারে সচেতন ও তাদের বিপুল সমর্থন আমরা পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কমিশনকে বলেছি, নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এর মধ্যে যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হবে। আমরা আশা করি কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে।’