বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির এমন অবস্থানের কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটি একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও এখন আবার শক্ত অবস্থানে ফিরেছে। এই দুই দল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে দেশ শাসন করেছে। দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের লক্ষ্যে সেই জোট পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে জামায়াত আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে দীর্ঘদিনের মিত্র ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
নিজ দলীয় কার্যালয়ে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করবো? তাহলে বিরোধী দলে থাকবে কে?
তিনি আরও বলেন, জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে।
তারেক রহমানের সহযোগীরা বলছেন, নির্বাচনে ৩০০ আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনেই জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদী তারা। এর মধ্যে ২৯২টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোয় জোটের শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তবে বিএনপি চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট করে আসন সংখ্যা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।
সব জনমত জরিপেই বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। তবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এই জোটে তরুণদের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন-জিদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) রয়েছে।