বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু দেশের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করার নির্বাচন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ, তাদের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা প্রয়োগ করবে। বাংলাদেশের মানুষ গত এক যুগ ধরে, তাদের কাছ থেকে যে রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সে অধিকার প্রয়োগ করবে। আজ বাংলাদেশের মানুষের সামনে হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগ করার সময় এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। এ দেশকে পুনর্গঠন করা হবে। বিগত সময়ে যারা জীবন দিয়েছে, যারা বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছে, তাদের সে মূল্যায়নকে কখনো বৃথা যেতে দেয়া যায় না। এবারের নির্বাচন শুধু দেশের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করার নির্বাচন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত একযুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যেমন রাজনৈতিক অধিকারকে প্রয়োগ করতে পারেনি, তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অধিকার থেকেও অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। আজ সময় এসেছে আমরা ১২ তারিখের নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবো। একইভাবে আমরা দেশ পুর্নগঠনের কাজে হাত দেবো।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। এই নারীকে যদি আমরা কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। সেজন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ বাংলাদেশের হাজারো, লাখ, কোটি নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। কিন্তু এ নারী, এ মা-বোনদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।’
এছাড়া নির্বাচনী জনসভায় একদল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ হবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভার মঞ্চে ওঠেন তিনি। মাঠ প্রাঙ্গণে আসতেই হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালি দিয়ে তাদের নেতাকে অভিবাদন জানায়। তারেক রহমান হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ২০০৩ সালের ৪ জানুয়ারি এই ঠাকুরগাঁও থেকেই তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন শুরু করেছিলেন তারেক রহমান। ওই সম্মেলনটি উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সেজন্য ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের আগমন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অন্য রকম একটা আবেগ রয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ নির্বাচনী সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। সঞ্চলনায় রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী। মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই বিএনপি নেতা মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী সমাবেশে মানুষের ঢল নেমেছে।
সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জেলা স্কুল মাঠে সমবেত হতে থাকেন। নেতাকর্মীদের অনেকেরই হাতে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ের প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
এ সমাবেশে ঠাকুগাঁও ও পঞ্চগড়ের দলীয় প্রার্থীরা রয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও -৩ আসনে জাহিদুর রহমান জাহিদ, পঞ্চগড়-১ আসনে নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, পঞ্চগড়-৩ আসনে মনজুরুল ইসলাম রয়েছেন।