ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা বলেছেন, ‘অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হলেই হয়তো আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাব। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে। একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য আমরা এই পথচলা শুরু করিনি। আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এটি দীর্ঘ পথ। আর আপনাদের সঙ্গে এই পথ চলা আমার জন্য সম্মানের।’
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পান ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। আর সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পান।
জাতীয় সংসদের ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটির এই জয়ে তাদের অভিনন্দন জানান তাসনিম জারা।
ফেসবুকে পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য আমি বিএনপিকে অভিনন্দন জানাই। ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবকেও অভিনন্দন। গতকাল রাতেই আমি তাঁকে ফোন করে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানিয়েছি। ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে তাদের সাফল্য কামনা করি। আমরা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করব। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।’
ঢাকা- ৯ আসনে নিজের নির্বাচনী প্রচারে নারীদের অংশগ্রহণ ‘অভূতপূর্ব’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তাসনিম জারা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইনে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ছিল এক বড় প্রাপ্তি। অনেক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমি দেখেছি যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়। যে কিশোরী বা তরুণীরা এই প্রচারণা আগ্রহ নিয়ে দেখেছ, তোমাদেরকে বলছি-স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয় না। ক্ষমতার কেন্দ্রে তোমারও অধিকার আছে। আমাদের আরও বেশি করে সামনে আসতে হবে।’
নির্বাচনের ফলে স্বেচ্ছাসেবকদের মন খারাপ না করার আহ্বান জানিয়ে তাদের উদ্দেশে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের ভলান্টিয়াররা এই পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃদস্পন্দন। সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার যে অনন্য দৃষ্টান্ত আপনারা তৈরি করেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। মন খারাপ করবেন না। আপনারা মানুষের মন জয় করেছেন আর সেটাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন জয়। আমরা সংগঠিত থাকব, সোচ্চার থাকব, একসাথে থাকব।
‘আমরা প্রমাণ করেছি, পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি টিকে থাকতে হলে তাকে শক্তিশালী হতে হবে। নির্বাচনের দিনে প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট এবং কেন্দ্রের বাইরে সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মডেলকে রক্ষা করতে হলে আমাদের আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যা যেকোনো ভয়ভীতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।’
তাসনিম জারা বলেন, ‘আজকের দিনটি সম্ভব হতো না, যদি জুলাইয়ের অকুতোভয় যোদ্ধারা রাজপথে বুক পেতে না দাঁড়াতেন। গণতন্ত্রের যে স্বাদ আমরা পাচ্ছি, তা তাদের অকল্পনীয় আত্মত্যাগের ফসল। আমি ধন্যবাদ জানাই অধ্যাপক ইউনূস ও তার টিম, এবং নির্বাচন কমিশনকে। এমন এক জটিল সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য এটি ছিল অত্যন্ত জরুরি একটি দায়িত্ব।
‘৪৪,০০০ প্লাস ভোট একটি বিশাল ফাউন্ডেশন। আমাদের ক্যাম্পেইন ও ফলাফল প্রমাণ করেছে যে, মানুষ ক্লিন পলিটিক্স চান। আমরা রাজনীতির পুরোনো ছকটি ভেঙে দিতে পেরেছি। আমরা ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাব। আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।’