ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ শেষের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় রমজানের মধ্যেই ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচনের সমীকরণ ও জোটের অবস্থান
ইসির প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২১২টি আসনে জয়ী বিএনপি এককভাবে ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী ১২টি এবং অন্যান্যরা বাকি আসনগুলো পাবে। সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭ থেকে ৩৮টি আসন পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোচনায় শীর্ষে যারা
সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের দৌড়ে অভিজ্ঞ ও রাজপথের লড়াকু নেত্রীদের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। প্রথম সারিতে রয়েছেন:
সেলিমা রহমান: দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী।
আফরোজা আব্বাস: মহিলা দলের সভাপতি ও প্রভাবশালী নেত্রী।
সুলতানা আহমেদ ও নাজমুন নাহার বেবী: মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি।
হেলেন জেরিন খান: সাবেক ছাত্রনেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি।
তরুণ ও ত্যাগী নেত্রীদের প্রাধান্য
দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, বিএনপি হাই কমান্ড তাদের মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই তালিকায় আছেন:
আরিফা সুলতানা রুমা ও অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী: সাবেক ছাত্রনেত্রী ও মাঠপর্যায়ের সংগঠক।
নিপুন রায় চৌধুরী: দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ।
সামিরা তানজিনা চৌধুরী: হারিছ চৌধুরীর মেয়ে।
সৈয়দা আদিবা হোসেন: সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন শিরিন সুলতানা, বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং শাম্মী আক্তার। সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও কনক চাঁপার নামও শোনা যাচ্ছে।
দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, বিগত দিনে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ত্যাগী এবং যোগ্য নারীদেরই এবার সংসদে পাঠানো হবে। ইসি তফসিল ঘোষণা করলেই চূড়ান্ত হবে কারা বসছেন সংসদের সংরক্ষিত আসনে।