২০২৪ সালের জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রবাসীদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপন অনুষ্ঠানে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাদের দাবি, আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের উপেক্ষা করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত দুটি প্রামাণ্যচিত্রে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রবাসীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় কুয়ালালামপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেকেই পুলিশের নজরদারি, দূতাবাসের হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হন। সেসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। অথচ তিনিই এবারের ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপন অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে মালয়েশিয়াভিত্তিক সংগঠন ‘৩৬ জুলাই স্মৃতি সংসদ, মালয়েশিয়া’ দূতাবাসের অনুষ্ঠান বয়কট করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির সমন্বয়ক ও কমিউনিটি নেতা শেখ সেলিম বলেন, ‘দূতাবাসের অনুষ্ঠানে বারবার প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না, এমনকি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয় না।’
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় যেসব কর্মকর্তা প্রবাসী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে। প্রনব ভট্টাচার্যকে দ্রুত প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পিএইচডি গবেষক ও জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক আলমগীর চৌধুরী আকাশ বলেন, ‘দূতাবাসের অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। যারা প্রকৃত অর্থে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরিবর্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক মো. মোকাম্মেল হুসাইন বলেন, ‘আমরা যারা কুয়ালালামপুরে আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলাম, তাদের কাউকেই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি। অথচ আন্দোলনের সময় দূতাবাস থেকে আমাদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’
এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্যের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।