বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণের সন্ধান করছেন বিজ্ঞানীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গ্যালিলিও মহাকাশযানের মাধ্যমে সেখানে মাকড়সার মতো দেখতে কাঠামোর খোঁজ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার একদল বিজ্ঞানী।
তাদের মতে, বিশেষ এই কাঠামো কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে পারলে ইউরোপার বরফাবৃত ভূত্বকের প্রকৃতি বোঝা সম্ভব হবে।
২০২৪ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার এক্সোমার্স ট্রেস গ্যাস অরবিটার মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে মাকড়সাসদৃশ আকৃতি শনাক্ত করেছিল। তবে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার মানানান ক্রেটার অঞ্চলে শনাক্ত করা মাকড়সা আকারের কাঠামোটি মঙ্গল গ্রহের মাকড়সা আকারের কাঠামোর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী। মঙ্গল গ্রহের মাকড়সার কাঠামো প্রতি বসন্তে দেখা দিয়ে আবার মিলিয়ে যায়, কিন্তু ইউরোপার মাকড়সার কাঠামো কয়েক দশক ধরে টিকে আছে।
ইউরোপায় শনাক্ত করা কাঠামোটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ধামহান এল্লা’। মাকড়সার আইরিশের নাম এটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি মঙ্গল গ্রহের মাকড়সাসদৃশ কাঠামোর মতো মনে হলেও এর সঙ্গে পৃথিবীর জমে যাওয়া হ্রদে তৈরি হওয়া লেক স্টার বা আইস অক্টোপাসের অনেক মিল রয়েছে।
বিজ্ঞানী দলের প্রধান লরেন ম্যাককিউন জানিয়েছেন, মানানান ক্রেটার তৈরির সময় যে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়েছিল তা বরফের নিচে লবণাক্ত পানিকে গলিয়ে দিয়েছিল। এই পানি যখন পুনরায় জমতে শুরু করে, তখন তা প্রসারিত হয়ে ওপরের বরফের স্তরে ফাটল ধরিয়ে দেয়। এই ফাটল দিয়ে ভেতরের লবণাক্ত পানি মহাশূন্যের শূন্যস্থানে উদ্গীরিত হয়। তখন নতুন করে বরফের স্তর গঠন করে মাকড়সার পা গুলোর মতো ছড়িয়ে পড়ে। লবণের উপস্থিতির কারণে এই নতুন বরফ চারপাশের বরফের চেয়ে অনেক বেশি গাঢ় দেখায়।
নতুন এই আবিষ্কার সম্পর্কে ম্যাককিউন আরও বলেন, নতুন তথ্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। পৃষ্ঠতলের এই বৈশিষ্ট্য আমাদের বরফের নিচের অবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু জানাতে পারে। ইউরোপা ক্লিপার মিশনে এমন আরও আকৃতি দেখা গেলে সেখানকার ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানির আধার থাকার তথ্য জানা যাবে।