ওসি মনিরের স্বেচ্ছাচারিতা
একজন পুলিশ সদস্য প্রতিদিন অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু নিজের পরিবারের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে ছুটি না পাওয়ার অভিযোগে সময়মতো অসুস্থ স্ত্রীর পাশে পৌঁছাতে না পারায় যমজ দুই নবজাতক সন্তানকে হারানোর হৃদয়বিদারক দাবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এক কনস্টেবল।
অভিযোগকারী কনস্টেবল মামুনুর রশিদ বর্তমানে এসএমপির মোগলাবাজার থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত। তিনি এসএমপির পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক নির্যাতন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনেছেন।
লিখিত অভিযোগে মামুনুর রশিদ বলেন, তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ঈদুল আজহার ছুটি এবং পরে নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করলেও ওসি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাননি এবং পরবর্তীতে অনুমোদিত ছুটিও কার্যকর হতে দেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার দাবি, গত ১৬ জুন সকালে হঠাৎ তার স্ত্রীর প্রসববেদনা শুরু হলে তিনি বিষয়টি ওসিকে জানিয়ে জরুরি ছুটি চান। কিন্তু ওসি ছুটি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভিভিআইপি ডিউটির কথা উল্লেখ করে পরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি একাধিকবার অনুরোধ করার পরও তিনি ছুটি পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বাড়িতেই যমজ সন্তান প্রসব করেন তার স্ত্রী। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর কন্যা সন্তানটি মারা যায়। কিন্তু ছুটি নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি এবং নিজের সন্তানের দাফনেও উপস্থিত থাকতে পারেননি।
লিখিত অভিযোগে মামুনুর রশিদ বলেন, রাতে হাসপাতালে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে সন্তানটিকেও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করতে হবে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে দ্বিতীয় সন্তানটিও মারা যায়।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ওসির বিলম্ব, অমানবিক আচরণ এবং ছুটি না দেওয়ার কারণেই তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের পাশে সময়মতো থাকতে পারেননি। এমনকি জীবিত বা মৃত কোনো অবস্থাতেই এক সন্তানের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পারেননি।
এছাড়া অভিযোগে তিনি দাবি করেন, মোগলাবাজার থানায় ওসির আচরণে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে আরও এক পুলিশ সদস্যকে গালিগালাজ, চাকরিচ্যুত করার হুমকি এবং মারতে উদ্যত হওয়ার ঘটনাও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ওসি মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কনস্টেবল মামুনুর রশিদ। অভিযোগের সঙ্গে দুই নবজাতকের মৃত্যু সনদ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নয় পাতার নথিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ওসি মো. মনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসএমপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।