ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপি যখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হিসেবে সামনে এসেছে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও জামায়াত নেতা শিশির মনির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এই ঘোষণা দেশজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী?
ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি বিশেষ কাঠামো, যা মূলত ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে জনপ্রিয়। এতে প্রধান বিরোধী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী নিয়োগ দেয়।
জামায়াত নেতা শিশির মনির জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ জানান, সরকারের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বা ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করাই হবে এই ছায়া মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য। এটি কোনো সমান্তরাল সরকার নয়, বরং সরকারের ভুলত্রুটি ধরা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করার একটি মাধ্যম।
ছায়া মন্ত্রিসভার এখতিয়ার ও কাজ
বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব অপরিসীম। এদের প্রধান কাজগুলো হলো:
১. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা।
২. বিকল্প বাজেট প্রস্তাব: সরকারের বাজেটের বিপরীতে জনবান্ধব বিকল্প বাজেট তুলে ধরা।
৩. প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ: মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বা অসংগতি জনগণের সামনে আনা।
৪. ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি: বিরোধী দলের নেতাদের প্রশাসনিকভাবে দক্ষ করে তোলা।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ছায়া মন্ত্রিসভা: একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ওয়াচডগ
ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারি মন্ত্রিসভার একটি সরাসরি দর্পণ হিসেবে কাজ করে। সেখানে প্রধান বিরোধী দলকে বলা হয় হিজ ম্যাজেস্টিস লয়াল অপজিশন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে সবসময় সজাগ রাখা এবং যেকোনো মুহূর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখা।
ব্রিটিশ পদ্ধতিতে ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যপ্রণালী
১. সমান্তরাল মন্ত্রণালয়: সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল থেকে একজন ছায়া মন্ত্রী থাকেন। যেমন, সরকারের অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে থাকেন ছায়া অর্থমন্ত্রী।
২. সংসদীয় প্রশ্ন: প্রতি বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এটি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ মঞ্চ।
৩. বিকল্প নীতি ও বাজেট: ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনা করে না, তারা জনগণের সামনে নিজেদের বিকল্প বাজেট এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করে।
৪. অফিসিয়াল বেতন ও পদমর্যাদা: যুক্তরাজ্যে ছায়া মন্ত্রিসভার নেতাকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন দেওয়া হয় এবং তাকে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান মর্যাদা দেওয়া হয়।