প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল, কারণ দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার পর তাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় শেষে এবারই সেই সম্মান পেয়েছেন লিপু।
সম্প্রতি এক পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন লিপু। সংবর্ধনা ও নির্বাচক হিসেবে কাজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা পথ ছাড়লাম, বলতে পারেন, ইট ওয়াজ ভেরি টাচি। একটা জয়ের (পাকিস্তানের বিপক্ষে) মাধ্যমে (বিদায়) হওয়ার কারণে একটা স্বস্তি ছিল আরকি। এতটুকুই বলব, এর বেশি কিছু বলতে চাই না আসলে। একটা পথ থেকে চলে গেছি, এখনই ওই সময়কাল নিয়ে কোনো আলাপ করতে চাই না। আমি যে ধরনের মানুষ, এটা নিয়ে সবাইকে খুব একটা জানানোর দরকার মনে করি না। আগে একটা পরিস্থিতি ছিল এক রকম, এখন আরেক রকম। ভালো-মন্দের মধ্য দিয়েই হয় একটা যাত্রা।’
নির্বাচকের দায়িত্ব অনেক কঠিন কাজ। সমর্থকদের মনমতো স্কোয়াড না হলে শুরু হয় সমালোচনা, ওঠে নানা প্রশ্ন। এমন অবস্থায় প্রধান নির্বাচক হিসেবে লিপু কি নির্ঝঞ্ঝাট সময় পার করতে পেরেছেন? তিনি জানান, ‘ভুল যে করিনি, তা তো নয়। কিন্তু মনে হয়, আমাদের বিবেক যেটা বলত—হ্যাঁ, সবার শেষে চিফ সিলেক্টর হিসেবে আমার একটা কল থাকত, হয়তো সেটাই করার চেষ্টা করতাম। তার মধ্যে তো কিছু ভুলত্রুটি হয়, কোনো সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়, কোনোটা আবার ঠিক মনে হয়। আবার হয়তো কোনোটা ১১ জনের সিদ্ধান্ত আমাদের পছন্দ হয় না যে এটা ঠিক হলো না। বা স্কোয়াড এ রকম করা যেত। আমরা মনে করি, ১৫ জনের স্কোয়াড তো আমাদেরই। সবাইকে একটা বাউন্ডারি দিতে হবে খেলতে। তো ওই বাউন্ডারিটা মনে করি যে পেয়েছি। দ্যাট ইজ মাই প্রিভিলেজ।’
লিপু আরও বলেন, ‘সবার কথাই শুনতাম। ওদের চ্যালেঞ্জ, অধিনায়কদের চাওয়া শুনতাম, শোনার চেষ্টা করতাম। তবু অনেক ক্রিটিক্যাল টাইম গেছে। ভুলত্রুটি যে হয়নি, তা নয়। ফিরে তাকালে মনে হয় এটা না করে যদি ওটা করতাম, হয়তো খারাপ হতো না। মানে এটা থাকেই কম-বেশি।’
প্রধান নির্বাচক হিসেবে ২ বছরের ক্যারিয়ারে তিনজন বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কাজ করেছেন লিপু। তিনজনের সময়ে ঠিকঠাক কাজ চালিয়ে যাওয়াকে তিনি এক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।