২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে যে রূপকথার সূচনা করেছিল তুরস্ক, তার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। এই সময়ের মধ্যে বিশ্বমঞ্চে ফিরতে চাইলেও বাছাইপর্বের বাধাই পেরোতে পারেনি তারা। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তুরস্ক।
ম্যাচের শুরু থেকেই র্যাঙ্কিংয়ে ৫৫ ধাপ এগিয়ে থাকা তুরস্ককে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে মোটেও একতরফা কিছু দেখা যায়নি। ঘরের মাঠে কসোভো সমানতালে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রথমার্ধেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত! ফিসনিক আসলানির জোরালো শটটি তুর্কি গোলরক্ষক উগুরকান চাকির আঙুলের ডগা ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে। জটলার মধ্যে ওরকুন কোকচুর মিস-হিট শট ব্যাক পোস্টে পেয়ে নিখুঁতভাবে জালে জড়ান কেরেম আক্তুরকোগ্লু। সেই এক গোলই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়। আর এই লিড ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লার দল।
২০২৪ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা এই দলটি এবার বিশ্বকাপে খেলবে গ্রুপ ‘সি’-তে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে এবং অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে কসোভোর গল্পটাও কম রোমাঞ্চকর নয়। ২০১৬ সালে ফিফা ও উয়েফার সদস্যপদ পাওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের এতটা কাছে পৌঁছায় তারা। সেমিফাইনালে স্লোভাকিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার দুয়ারে দাঁড়িয়েছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ তুরস্কের রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি বলকান অঞ্চলের এই উদীয়মান দল। ১০ বছর আগে হাইতির বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা কসোভোর জন্য প্লে-অফ ফাইনাল পর্যন্ত ওঠাও নিঃসন্দেহে এক বিশাল অর্জন।