ক্যাম্প ন্যুতে এক অন্যরকম গল্প লিখল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। পরিসংখ্যান, দখল আর সুযোগ! সবকিছুতে এগিয়ে থেকেও শেষ হাসি হাসতে পারল না বার্সেলোনা। বরং দশজনের দল হয়ে পড়ার পর নিজেদের ভুলের মাশুল দিয়েই হারতে হলো কাতালানদের। ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের পথে শক্ত অবস্থান তৈরি করল ডিয়াগো সিমিওনের দল।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল অ্যাটলেটিকো। ২০০৬ সালের পর ক্যাম্প ন্যুতে জয়হীনতার যে বৃত্তে তারা আটকে ছিল, টানা ১৯টি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর সেটাই ভেঙে দিল এই ম্যাচে। শুধু একটি জয় নয়, এটি যেন অতীতের হতাশা ঝেড়ে ফেলারও গল্প।
ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি বার্সেলোনার দখলে। আক্রমণের পর আক্রমণ সাজায় তারা। মার্কাস রাশফোর্ড, লামিন ইয়ামালরা একাধিকবার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়াতে পারেননি। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ছিল দারুণ, কিন্তু শেষ মুহূর্তে গিয়ে যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪৪ মিনিটে পাউ কুবারসির ফাউলে লাল কার্ড দেখার পর দশজনের দলে পরিণত হয় বার্সেলোনা। সেই সুযোগ লুফে নিতে দেরি করেনি অ্যাটলেটিকো। ফ্রি-কিক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় তারা।
একজন কম নিয়েও হাল ছাড়েনি বার্সেলোনা। লামিন ইয়ামাল আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে বারবার ব্যর্থতা হতাশ করেছে দলকে। উল্টো ম্যাচের ৭০ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় অ্যাটলেটিকো। বদলি হিসেবে নেমে আলেক্সান্ডার সরোলথ ক্রস থেকে ভলিতে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন।
পুরো ম্যাচে বল দখল ও শটের হিসেবে এগিয়ে থেকেও ফল নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি বার্সেলোনা। আর সুযোগকে কাজে লাগানোর নিখুঁত উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায় অ্যাটলেটিকো।
এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল সিমিওনের শিষ্যরা। আগামী মঙ্গলবার মেট্রোপলিটানোতে ফিরতি লেগে নামবে দুই দল। দুই গোলের ব্যবধান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো বার্সেলোনার জন্য যে কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।