বিশ্বকাপের মাঠে বল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরের উত্তেজনা যেন বাড়ছেই। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ছায়া এবার সরাসরি এসে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে। আর সেই টানাপোড়েনের মাঝেই বড় এক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল ফিফা। ইরান চেয়েছিল তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় নেওয়া হোক। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে এমন অনুরোধ করেছিল দেশটি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
মেক্সিকো সিটিতে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম। তিনি জানান, ‘শেষ পর্যন্ত ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ম্যাচগুলো মূল ভেন্যু থেকে সরানো সম্ভব নয়। তাদের মতে, এটি বিশাল ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করত।’
ঘটনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপট। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। সেই ঘটনার পরই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে না খেলার অনুরোধ জানায় ইরান। যদিও বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে, তবুও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপ। ‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর। শুরু থেকেই ম্যাচ সরানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিল ফিফা, এবার সেটাই আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হলো। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও এই বিষয়ে একদম পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইরান খেলুক, এবং ইরান খেলবেই। কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই, একটাই পরিকল্পনা।’
অন্যদিকে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ইঙ্গিত দিয়েছেন ভিন্ন পথে যাওয়ার। তিনি জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র বয়কটের কথা ভাবছে, তবে বিশ্বকাপ বয়কট নয়। যদিও ঠিক কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের অংশগ্রহণ উপযুক্ত নয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই, কিন্তু মাঠের খেলার আগে যে রাজনৈতিক উত্তাপই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে—তা বলাই যায়।