যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে নিজেরাই যে মাইন পেতেছিল, এখন সেগুলোর হদিস পাচ্ছে না ইরান। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার (১১ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে দ্রুত এই পথ খুলে দেওয়ার যে সময়সীমা দিয়েছিলেন, পেতে রাখা মাইন সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফলে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান শান্তি আলোচনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর ইরান ছোট নৌকার সাহায্যে হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন করেছিল।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এই মাইনগুলো স্থাপনের সময় কোনো সঠিক ম্যাপ বা রেকর্ড রেখেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। আবার যেসব মাইনের রেকর্ড রাখা হয়েছিল, সেগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল, স্রোতের তোড়ে সেগুলো মূল স্থান থেকে সরে গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা একে ইরানের ‘খামখেয়ালি’ মাইন স্থাপন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এরই মধ্যে সতর্ক করেছে, এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো সামুদ্রিক মাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে। তবে তারা কর বা টোল দেওয়ার বিনিময়ে জাহাজ চলাচলের জন্য বিকল্প ছোট পথ খোলা রেখেছে।
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চলতি সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি হয়।
কিন্তু এই জলপথ দ্রুত মাইনমুক্ত করতে না পারায় ইরান এখন জাহাজ চলাচলের জন্য বিকল্প রুটের ঘোষণা দিয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তার নীতি মেনে চলা এবং মাইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’
ওই বিবৃতিতে জাহাজগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য নতুন কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।