নেইমারের গোল, তবু তৃপ্তি নেই। মাঠ ছাড়ার পথে তর্কে জড়ালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। কোপা সুদামেরিকানার গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটা শুধু একটি ড্র নয়, বরং আবেগ, প্রত্যাবর্তন আর চাপের মিশেলে এক ভিন্ন গল্প হয়ে থাকল। মঙ্গলবার সান্তোস ১-১ গোলে ড্র করে দেপোর্তিভো রিকোলেতার সঙ্গে। স্কোরশিটে একমাত্র আলো ছড়ান নেইমার জুনিয়র, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সেই গোল দলকে জয়ের স্বাদ দিতে পারেনি।
ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর এই ম্যাচেই প্রথমবার জালের দেখা পেলেন নেইমার। দীর্ঘ ১৪ বছর পর দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব প্রতিযোগিতায় তার গোল। সবশেষ ২০১২ সালে কোপা লিবার্তাদোরেসের সেমিফাইনালে করেছিলেন। সংখ্যাটা যত বড়, প্রত্যাশাটাও যেন ততটাই ভারী হয়ে এসেছে তার কাঁধে।
ম্যাচ শেষে সেই চাপটাই যেন অন্যভাবে সামনে আসে। দর্শকদের দুয়োধ্বনি, হতাশা; সব মিলিয়ে পরিবেশটা ছিল উত্তপ্ত। তবে নেইমার ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দল ভুল করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে ভালো খেলেছে এবং সুযোগও তৈরি করেছে। ভক্তদের হতাশা তিনি বুঝতে পারেন, তবে ফুটবলে এমন ওঠানামা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন।
সাক্ষাৎকার শেষে টানেলের দিকে যাওয়ার সময় আচমকা এক ভক্তের মন্তব্য পরিস্থিতিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। তাকে ‘মোটা’ বলে কটাক্ষ করা হয়, সঙ্গে আরও অনুশীলনের পরামর্শ। শুরুতে হেঁটে চলে গেলেও, কিছুটা দূর গিয়ে আবার ফিরে আসেন নেইমার। এরপর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আর সমালোচনাকারী ভক্তকে তার ‘মুহূর্ত’ উপভোগ করতে দেন। এই দৃশ্যটাই যেন পুরো ম্যাচের প্রতিচ্ছবি। একদিকে প্রত্যাবর্তনের আলো, অন্যদিকে সমালোচনার ছায়া।
এদিকে নেইমারের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য। চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখনও অটুট। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই তারকা গত ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করান, পরে দ্রুত সুস্থ হতে আরেকটি ছোট অপারেশনও করেন। এখন অপেক্ষা, তিনি কি চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে পারবেন?