রাজশাহীর মাঠে শেষ ম্যাচটা ছিল একরকম অলিখিত ফাইনাল। সিরিজ ১-১ সমতায় থাকায় যে দল জিতবে, তারাই হাসবে শেষ হাসি। কিন্তু সেই লড়াইয়ে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের ৭ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ২১৩ রানেই থামতে হয়েছে স্বাগতিকদের।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সোবহানা মোস্তারি। ৮০ বলে ৭৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি, ৩৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। এরপর শারমিন আক্তার ও নিগার সুলতানা জ্যোতি মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, তবে শারমিনের ১৭ রানে আউট হওয়ার পর আবারও ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।
পরবর্তীতে জ্যোতি ও মোস্তারি মিলে গড়েন ৬৫ রানের জুটি, যা ছিল ইনিংসের বড় ভিত্তি। তবে রান তোলার গতি ছিল মন্থর। দলীয় ১৩৪ রান আর ব্যক্তিগত ৪০ রান করে জ্যোতি সাজঘরে ফিরেন। ফিফটি পাননি জ্যোতি, তবে ফিফটি তুলে নেন মোস্তারি এবং শেষ পর্যন্ত ৭৪ রান করে ফেরেন। শেষদিকে রিতু মনির ১৬ বলে ২০ রানের ছোট্ট ঝড় দলকে দুইশ পেরোতে সাহায্য করে।
২১৪ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না শ্রীলঙ্কার জন্য। শুরুতেই ১৯ রানে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আউট হলে কিছুটা আশার আলো দেখেছিল বাংলাদেশ। মারুফা আক্তার সেই উইকেট এনে দেন। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
দ্বিতীয় উইকেটে হাসিনা পেরেরা ও ইমেশা দুলানি মিলে গড়েন ১০৮ রানের জুটি, যা কার্যত বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয়। দুলানি ৫৬ রান করে আউট হলেও পেরেরা এক প্রান্ত ধরে রেখে ১৩১ বলে ৯৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। তাকে ভালো সঙ্গ দেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা, যিনি ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার নেন ২টি উইকেট, তবে ততক্ষণে ম্যাচ অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে গেছে।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হলেও দুই দলের লড়াই এখানেই থামছে না। সামনে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২৮ ও ৩০ মে এবং ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এই সিরিজের ম্যাচগুলো, যেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ পাবে বাংলাদেশ নারী দল।