বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে ঘিরে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে দলটি বিশ্বমঞ্চে নামলেও তাদের লক্ষ্য একটাই, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানো।
লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ ‘জি’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ আমির ঘালিনোই এবং তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি জানান, সব চাপের মাঝেও তারা একতাই তুলে ধরতে চান। প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশের সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়েও তৈরি হয়েছে বাড়তি আলোচনা।
মেহেদি তারেমি বলেন, ‘আমরা দেশের ভেতরের এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত ইরানি নাগরিককে সম্মান করি। বহু বছর ধরে ইরান একটি সভ্য ও ঐক্যবদ্ধ জাতি। আমরা বিশ্বমঞ্চে সেই একতাই প্রদর্শন করতে চাই। আমরা এখানে এসেছি বিশ্বের যেখানেই ইরানিরা থাকুক না কেন, তাদের মুখে একটুখানি আনন্দ এনে দিতে।’
চলতি বছরের শুরুতে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে দলটির ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি, যার কারণে ইরান দলের কিছু স্টাফকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ম্যাচের বাইরে অবস্থানেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। ফলে ম্যাচ শেষে দলকে মেক্সিকোতে গিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে।
কোচ আমির ঘালিনোই বলেন, ‘আমরা কঠিন পরিস্থিতি ও কষ্টকে সুযোগে রূপান্তর করতে অভ্যস্ত। আমাদের মাথায় এই মুহূর্তে আমাদের দেশের মানুষের মুখে আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো চিন্তা নেই। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, বাকিটা সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছা।’
স্টেডিয়ামে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা বিতর্কিত পতাকা দেখা গেলে দল মাঠ ছেড়ে দেবে কি না—এমন প্রশ্নে কোচ সরাসরি উত্তর না দিলেও জানান, খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরের বিষয়গুলো থেকে নিজেদের আলাদা রাখতে সক্ষম।