ভিএআরের এক সিদ্ধান্তই বদলে দিল পুরো গল্প। ইতিহাস গড়ার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হলো ইরানের। আর সেই হতাশার মধ্যেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল মিশর।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মিশর। মাত্র পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। বক্সের ভেতর থেকে সালাহর বাঁ পায়ের কার্লিং শট প্রথমে রুখে দেন গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বলে সাবেরের নেওয়া দুর্বল শট অসংখ্য পায়ের ফাঁক গলে এবং গোলরক্ষকের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। এটি মিশরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল।
গোল হজমের পরই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ইরান। তারেমি চালাকি করে আবদেলমোনেমের পা থেকে বল নেওয়ার চেষ্টা করলে মিশরীয় ডিফেন্ডার তাকে ফাউল করেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি তারেমি। গোলরক্ষক শোবেইর দুর্দান্ত ডাইভে বল আটকে দিয়ে মিশরকে এগিয়ে রাখেন।
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি ইরান। ১৫ মিনিটেই সমতায় ফেরে তারা। এজাতোলাহির শট শোবেইর ঠেকালেও ফিরতি বলে সবচেয়ে কঠিন কোণ থেকে জাল খুঁজে নেন রামিন রেজাইয়ান। প্রথম ম্যাচের পর এবারও গোল করে দলের ত্রাতার ভূমিকায় নাম লেখান তিনি। একই সঙ্গে এটি ইরানের ইতিহাসে বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে। ফ্রি কিক থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় মিশর। সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠান খালিলজাদে। পুরো ইরান যখন উদযাপনে মেতে ওঠে, তখনই ভিএআরের হস্তক্ষেপ। রিপ্লেতে দেখা যায়, শট নেওয়ার সময় খালিলজাদে অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোল বাতিল করে দেন রেফারি।
শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। তিন ম্যাচে তিন ড্র করে তিন পয়েন্ট নিয়ে এখন মিরাকলের অপেক্ষায় ইরান। অন্যদিকে, তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল মিশর।