আজ রোববার বেঞ্চে বসে সতীর্থদের খেলা উপভোগ করছিলেন লিওনেল মেসি। তাকে ছাড়াই দাপটের সঙ্গে খেলছিল আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গা-ছাড়া ফুটবলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ফেলে জর্ডান। এরপরই মাঠে নামানো হয় মেসিকে। আর নেমেই ফী কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নজির গড়েন তিনি; যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। জর্ডান নিজেদের অর্ধেই আট-নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে রক্ষণ গড়ে তোলে। তবু ১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন জিওভানি লো সেলসো। ৩১ মিনিটে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ২-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির পর আগের চেয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জর্ডান। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর ৫৫ মিনিটে মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। ওই সময় আর্জেন্টিনার রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়, যা নকআউট পর্বের আগে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নতুন করে ভাবাবে।
ঝুঁকি না নিয়ে ৬০ মিনিটে মেসিকে মাঠে নামান লিওনেল স্কালোনি। তার সঙ্গে নামেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও থিয়াগো আলমাদা। এরপর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। ৮০ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করেন মেসি। সেই গোলেই বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। তবে জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে যে দুর্বলতা দেখা গেছে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তা নিয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে স্কালোনির দলকে।