বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই বলেন ‘অপ্রয়োজনীয়’। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের কোচও ম্যাচের আগে স্বীকার করেছিলেন, শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর এমন ম্যাচ খেলতে কারো ভালো লাগে না। দুই দলের শুরুর একাদশেও দেখা গেছে সেই ছাপ। দলের সেরা দুই পারফর্মার হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামকে ছাড়াই একাদশ সাজান ইংলিশ কোচ। অন্যদিকে ডেম্বেলেসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই শুরুতে মাঠে নামে ফ্রান্স।
কিন্তু মাঠে নামার পর মায়ামিতে দুই দল উপহার দিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই, গোলবন্যার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জিতেছে ৬-৪ ব্যবধানে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডেক্লান রাইসের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় তারা। এরপর ১৮ মিনিটে এজেরি কনসা হেডে ব্যবধান বাড়ান। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ৩৭ ও যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, ফ্রান্স যেন এখনও সেমিফাইনালের হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথম গোলটি করে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান। ৫৪ মিনিটে বারকোলার গোলে ব্যবধান কমে হয় ৪-২। এরপর ৬৬ মিনিটে আবারও ওলিসের পাস থেকে গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন এমবাপ্পে।
এই গোলের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২-এ। ফলে টপকে যান লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড। পাশাপাশি চলতি আসরে দশম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সবার ওপরে উঠে যান ফরাসি তারকা। পাশাপাশি মাইকেল ওলিসে নিজের সপ্তম অ্যাসিস্ট করে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েন, ভেঙে দেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের ছয় অ্যাসিস্টের কীর্তি।
স্কোর যখন ৪-৩, তখন ম্যাচে আবারও নিয়ন্ত্রণ ফেরায় ইংল্যান্ড। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। এর আগে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপে একই কীর্তি গড়েছিলেন কিংবদন্তি পেলে।
যোগ করা সময়ে দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে আরেকটি গোল শোধ করলেও শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ গোলটি করেন। তাতেই ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।
এই জয়ে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য হিসেবে যুক্ত হলো তৃতীয় স্থান। অন্যদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়টা হলো হতাশার।
রেকর্ডের দিক থেকেও ম্যাচটি জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এর আগে কখনও ১০ গোল হয়নি। ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ গোলে হারানো ফ্রান্সের ম্যাচটিই ছিল আগের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবেও স্থান করে নিয়েছে।