বিশ্বকাপ ফুটবল এমনই এক মঞ্চ, যেখানে ব্যর্থতার আড়ালেও জন্ম নেয় নতুন ইতিহাস। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে চতুর্থ হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছে ফ্রান্স। তবে এ ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। একই ম্যাচে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন সতীর্থ মাইকেল ওলিসেও।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির ২১ গোলকে। মাত্র ২২ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন ২৭ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ২০১৮ বিশ্বকাপে চার গোল, ২০২২ সালে আট গোল ও চলতি আসরে ১০ গোল করে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করলেন তিনি। ১০ গোল নিয়ে এবার গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সবার ওপরে রয়েছেন এমবাপ্পে। তবে ফাইনালেই এমবাপ্পের এই রেকর্ড ভেঙ্গে দিতে পারেন মেসি।
অন্যদিকে এ ম্যাচে দুই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ওলিসের মোট অ্যাসিস্ট দাঁড়িয়েছে সাতটি, যা এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নতুন বিশ্বরেকর্ড। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙ্গেছেন তিনি। চলতি আসরে ওলিসের সাত অ্যাসিস্টের পাঁচটিই করেছেন এমবাপ্পেকে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নির্দিষ্ট দুই খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোল-অ্যাসিস্ট সমন্বয়ের নতুন রেকর্ড।
ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও গড়েছেন মাইকেল ওলিসে। পুরো টুর্নামেন্টে ২০টি শট নিয়েও একবারও গোলের দেখা পাননি তিনি। ২০১০ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিরও ২০টি শট থেকে গোল না পাওয়ার রেকর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে নাম লিখিয়েছেন ওলিসে।
তবে এসব ব্যক্তিগত এই অর্জন খুব বেশি আনন্দ দিতে পারেনি ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পেকে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘মেসি ফাইনালে গোল করবেন, এটা নিশ্চিত। আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চেয়েছিলাম। বিশ্বকাপে অনেক গোল করলে অবশ্যই বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছানো যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে রোববারের ফাইনাল খেলতে পারলে আমি অনেক বেশি খুশি হতাম। ইতিহাসে নাম লেখা দারুণ ব্যাপার, কিন্তু এই মুহূর্তে সেটি আমাকে আনন্দ দিচ্ছে না।’
ফ্রান্সের জন্য বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে হতাশায়, কিন্তু এমবাপ্পে ও ওলিসের ব্যক্তিগত কীর্তি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আলাদা করে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।