ভোরের বাংলাদেশ। খালি মাঠ। গোলপোস্টে ঝুলে থাকা একটি পুরোনো জাল। ছাদজুড়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা। চায়ের দোকানে খেলা দেখা। রাত জেগে উল্লাস। শিশুদের ফুটবল খেলা। গ্রামের কাঁচা রাস্তা থেকে শহরের অলিগলি—সবখানেই ফুটবলের রঙ।
বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। চার বছর অপেক্ষার সেই উৎসবেরও পর্দা নেমেছে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দুই দেশ—ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। অথচ তাদের জয়-পরাজয়ে কেঁদেছে, হেসেছে, রাত জেগেছে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ। এই দৃশ্য পৃথিবী বহুবার দেখেছে।
একটি দেশের মানুষ, যারা নিজেদের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখতে পারে না, কিন্তু ফুটবলকে ভালোবাসে নিজের অস্তিত্বের মতো।
প্রতিটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আকাশ রঙিন হয়। গ্রাম থেকে শহর—সবখানে ওড়ে বিদেশি পতাকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় পর্দা। অফিস শেষে ছুটে চলা মানুষ। মধ্যরাতে চায়ের দোকানে জমে ওঠে তর্ক। এ যেন শুধু একটি খেলা নয়, একটি জাতির অনুভূতির ভাষা।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই...
যে দেশের মানুষের হৃদয়ে ফুটবলের জন্য এত ভালোবাসা, সেই দেশ কেন এখনো বিশ্বমঞ্চে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারেনি?
আশার আলো অবশ্য নিভে যায়নি। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে—সুযোগ পেলে বাংলাদেশও পারে।
কিন্তু মাঠের সাফল্যের পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে—খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং পেশাদার ফুটবল ব্যবস্থার উন্নয়ন—এসব কি সেই গতিতে এগিয়েছে?
শুধু করতালি কি যথেষ্ট?
বাংলাদেশে ফুটবলের ভালোবাসার কোনো অভাব নেই। অভাব যদি কোথাও থেকে থাকে, তবে সেটি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ধারাবাহিক উদ্যোগে। কোটি মানুষের আবেগকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে হয়তো একদিন বাংলাদেশের পতাকাও বিশ্বকাপের মঞ্চে উড়বে।
বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। স্টেডিয়ামের আলো নিভে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অলিগলিতে এখনো একটি বল গড়িয়ে চলে। হয়তো সেই বলের পেছনেই দৌড়াচ্ছে ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন।
প্রশ্ন শুধু একটাই—আমরা কি সেই স্বপ্নকে পথ দেখাতে প্রস্তুত?