২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নিতে রাজধানী মাদ্রিদের রাস্তায় নেমে আসে প্রায় ১৮ লাখ সমর্থক। শহরজুড়ে উৎসবের আমেজে বীরের সংবর্ধনা পান লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই নিশ্চিত হয় শিরোপা।
দেশে ফিরে প্রথমে রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দর ফুটবল, অদম্য প্রচেষ্টা এবং এই অবিস্মরণীয় জয়ের জন্য কোচ ও খেলোয়াড়দের অশেষ ধন্যবাদ। আপনাদের খেলা দেখে আমরা সত্যিই ভীষণ আনন্দিত।’
এরপর ছাদখোলা একটি বাসে করে মাদ্রিদ শহরে বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নেয় পুরো দল। ‘একসাথে জ্বলে ওঠে তারকারা’ লেখা বাসে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন খেলোয়াড়রা। ‘সোমোস ক্যাম্পিওনেস’ লেখা বিশেষ টি-শার্ট পরে উৎসবে মাতেন তারা।
শোভাযাত্রার আগে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এমন একটি দুর্দান্ত দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা আত্মহারা, আনন্দিত।’
মনক্লোয়া প্যালেস থেকে ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ার পর্যন্ত চলে এই বিজয়যাত্রা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু মূল সংবর্ধনা স্থানেই উপস্থিত ছিলেন অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। নিজের ২৫তম জন্মদিনে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মঞ্চে ওঠেন অ্যালেক্স বায়েনা। পরে কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে কাঁধে তুলে উদযাপন করেন খেলোয়াড়রা। সংগীত পরিবেশনা ও আতশবাজির মধ্য দিয়ে উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শুধু মাদ্রিদ নয়, রোববার রাত থেকেই স্পেনজুড়ে শুরু হয় উদযাপন। রাজধানীর পুয়ের্তা দেল সোলসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে হাজারো মানুষ পতাকা, গান, নাচ ও আতশবাজিতে বিশ্বজয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।
এই শিরোপার মাধ্যমে স্পেন আরও একটি অনন্য ইতিহাস গড়েছে। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ এবং ২০২৬ সালে পুরুষ বিশ্বকাপ জিতে প্রথম দেশ হিসেবে নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা অর্জন করেছে তারা।