টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে না পারার হতাশা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইতালি। সেই পুনর্গঠন অভিযানের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে দেশটির ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি আন্দ্রেয়া পিরলোকে।
ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে পিরলোকে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইতালির বিখ্যাত সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো। তার দাবি, সাবেক এই মিডফিল্ডার প্রস্তাবে সম্মতিও জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ইতালির ডাগআউটে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে পিরলোর।
তবে এখনো পিরলোর নিয়োগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। চুক্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে ইতালির নতুন কোচ হিসেবে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
পিরলো দায়িত্ব নিলে তিনি স্থলাভিষিক্ত হবেন সাবেক সতীর্থ জেন্নারো গাত্তুসোর। ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত এপ্রিলে পদ ছাড়েন গাত্তুসো। এর ফলে ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি।
নতুন কোচ খুঁজতে শুরুতে ইতালির কারিগরি কাঠামোর দায়িত্বে থাকা পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দো বড় দুই নাম কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার দিকে নজর দিয়েছিলেন। তবে আনচেলত্তি ব্রাজিলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। আর গার্দিওলা ব্যক্তিগত কারণে প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এরপরই ফেডারেশনের পছন্দের তালিকার শীর্ষে উঠে আসেন পিরলো। দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহই তাকে এগিয়ে দিয়েছে বলে দাবি রোমানোর।
কোচ হিসেবে পিরলোর অভিজ্ঞতা খুব দীর্ঘ না হলেও সাফল্যের অভাব নেই। ২০২০ সালে জুভেন্টাসের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই কোপা ইতালিয়া ও সুপারকোপা ইতালিয়ানা জিতেছিলেন তিনি। এরপর ফাতিহ কারাগুমরুক, সাম্পদোরিয়া এবং সর্বশেষ দুবাইয়ের ইউনাইটেড এফসির কোচ ছিলেন। গত মৌসুমে ইউনাইটেড এফসিকে ইউএই প্রো লিগে উন্নীত করে নিজের কোচিং দক্ষতার প্রমাণও দিয়েছেন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তি।