বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ দল নির্বাচন। বয়স জালিয়াতি এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটারদের দলে সুযোগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য গঠিত প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩১ ক্রিকেটারের মধ্যে অন্তত আটজনের বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জুঁই তালুকদার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার প্রকৃত বয়স ২৪ বছর হলেও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার জন্য একাধিকবার জন্মতারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথম নিবন্ধনে জন্মসাল ছিল ২০০২। পরে তা ২০০৪ করা হয় এবং সর্বশেষ নতুন জন্মসনদের মাধ্যমে বয়স আরও কমিয়ে ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়।
শুধু জুঁই নন, খাদিজা খাতুন ও সুবর্ণা কর্মকারসহ আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের বয়স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম বিসিবির ওভারএজ খেলোয়াড়দের তালিকাতেও রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নারী উইংয়ের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পারফরম্যান্সে পিছিয়ে থাকা এবং বেশি বয়সী ক্রিকেটারদের স্কোয়াডে জায়গা করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে আগে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন বিসিবির উইমেন্স উইং চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। নির্বাচক ও টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের বয়স জালিয়াতির এই অভিযোগে বিসিবি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করবে কি না, আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র - চ্যানেল টোয়েন্টিফোর