মাঠে যেমন বল হাতে লড়াই করেন, তেমনি নাগরিক দায়িত্বের প্রশ্নেও একচুল পিছু হটলেন না মোহাম্মদ শামি। ভোটাধিকার সংক্রান্ত এসআইআর শুনানিতে হাজির হয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন নিজের পরিচয়। তিনি একজন গর্বিত ভারতীয় এবং বাংলার বাসিন্দা। প্রয়োজনে বারবার হাজির হওয়ার কথাও অকপটে বললেন ভারতের এই তারকা পেসার।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কলকাতার শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছান শামি। কারণ, নির্বাচন কমিশনের নথিতে কিছু অসঙ্গতির কারণে তাকে ও তার ভাই মোহাম্মদ কাইফকে ‘আনম্যাপড ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বাবা-মায়ের নাম পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে না মেলার বিষয়টি থেকেই এই জটিলতার সূত্রপাত।
কৈশোরে ক্রিকেটের স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় পা রাখা শামি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যাদবপুরের কাটজুনগর এলাকায় বসবাস করছেন। কলকাতা পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের নথিভুক্ত ভোটার হিসেবেই এতদিন তার পরিচয়। শুনানিতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় নিয়ে নিজের ও ভাইয়ের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তিনি।
শুনানি শেষে শামির কণ্ঠে ছিল দায়িত্ববোধের বার্তা। নাগরিক হিসেবে নিজের তথ্য সঠিক রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব, আর সেই কারণেই তিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। যাদের ডাকা হবে, তাদেরও এগিয়ে এসে বিষয়গুলো ঠিক করার আহ্বান জানান এই পেসার। শামির ভাষায়, ‘পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অসুবিধা হয়নি, নির্বাচন দপ্তরের কর্মকর্তারাও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছেন।’
নতুন বছরের শুরুতেই নোটিশ পেলেও বিজয় হাজারে ট্রফিতে বাংলার হয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকায় প্রথম তারিখে হাজির হতে পারেননি শামি। বিষয়টি জানানো হলে তাকে নতুন দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে আবার ডাক এলে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, এ কথাও জানিয়ে দেন।
ক্রিকেট মাঠে ভারতের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৪৬২ উইকেট নেওয়া এই পেসার ২০২৩ বিশ্বকাপে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন। আপাতত জাতীয় দলে না থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন এবং সামনে আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে ফের মাঠে নামবেন।